রাজনীগন্ধা গাছের রোপন
![]() |
| রাজনীগন্ধা গাছ |
রজনীগন্ধা (Tube Rose), আমাদের দেশে বহুল বাবহৃত ফুল এর মধে অন্যতম একটি। এ ফুল সন্ধাকালে ফোটে এবং প্রচুর সুগন্ধ ছড়ায় বলে একে রজনীগন্ধা বলে। প্রায় সারা বছরই রজনীগন্ধার চাষ করা যায়। তবে শীতকালে রজনীগন্ধা ফুলের উৎপাদন কমে
যায়। উষ্ণ ও আদ্র আবহাওয়া এটি বেশি পছন্দ করে বলে গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে এর ভাল ফলন হয়।
জাত
ফুলের পাপড়ির সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে আমাদের দেশে কয়েক জাতের রজনীগন্ধা পাওয়া যায়। তার মধ্যে সিঙ্গেল ও ডাবল জাতের রজনীগন্ধা বেশি দেখা যায়। সুগন্ধ ও বেশি ফুল হওয়ায় সিঙ্গেল জাতের চাহিদা সব থেকে বেশি। ডাবল ফুলের পাপড়ি সংখ্যা অনেক হয় কিন্তু
গন্ধ ও ফুলের সংখ্যা কম হয়।
লাগানোর সময়ঃ
রজনীগন্ধার কন্দ জমিতে চাষের সময়কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়ঃ-
- মার্চের মধ্য থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত।
- অক্টোবর হতে মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত।
তবে টবে লাগানোর
ক্ষেত্রে যেকোনো সময় লাগানো যেতে পারে। কিন্তু যেহেতু টবের গাছে আমরা আল্প সময়ে
ফুল পেতে চাই তাই ফুল আশার আগে আগে চারা লাগানোই ভালো। এ বিষয়টি বিবেচনা করলে মে
থেকে জুন মাসের শুরুর দিকে লাগানো সব থেকে উপযুক্ত সময়।
চারা / কন্দ সংগ্রহঃ
রজনীগন্ধা বীজ ও বাল্ব/কন্দের (অনেকটা পেঁয়াজের মতো
দখতে) মাধ্যমে বংশবিস্তার
করে। টবে লাগানোর জন্য আমরা রজনীগন্ধের চারা অথবা কন্দ/বাল্ব নার্সারী থেকে
সংগ্রহ করতে পারি। জানুয়ারী - ফেব্রুয়ারী
মাসে ফুল ফোটা শেষে কন্দ সংগ্রহ করা যায়। ভালো ফুল ও গাছ পেতে বড় বা মাঝারি আকারের
কন্দ নিতে হয়। আর গাছ প্রায় সব সময়ই পাওয়া যায়।
টব নির্বাচন:
রজনীগন্ধাফুল চাষের জন্য মাঝারি ও চওড়া আকারের টব নর্বাচন করতে
হবে। কারন এটি কন্দের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। ফুল ফোটার পর ঔ কন্দটি মারা যায় এবং
এর গোড়ায় আরও নতুন কন্দের জন্ম নেয়। একটি টবে ২টি
কন্দ লাগানো যায়। এতে ভালো ফুল ও স্বাস্থবান গাছ পাওয়া যায়। টবের নীচে পানি
নিষ্কাষণের জন্য ভালো ছীদ্র থাকতে হবে যাতে গাছের গড়ায় পানি জমে না থাকে।
মাটি তৈরিঃ
বাল্ব জাতীয় উদ্ভিদের মাটি সবসময় ঝুরঝুরে ও ভেজা রাখতে হয়। তাই টবের জন্য মাটি আমরা নিম্ন উপায়ে তৈরি করব-
- ১ ভাগ মাটি ( যে কোনো মাটি )
- ১ ভাগ নদীর বালি মাটি
- ১ ভাগ ভার্মিকম্পষ্ট / পঁচা গবর / পাতা পঁচা সার
এ গুলো একত্রে মিশিয়ে টবের মাটি তৈরী করতে হবে। ভালো ফুল ও গাছের জন্য এ কম্বিনেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রোপণঃ
টবে মাটি ভরানোর আগে টবের ড্রেইনেজ সিষ্টেম ঠিক-ঠাক
ভাবে করে নিতে হবে। এ জন্য টবের ছিদ্র টবের নিচে হতে হবে। নিচে ছিদ্র না থাকলে করে
নেওয়া ভালো। এই ছিদ্রের উপর খোলাম কুচি অর্থাং পুরনা ভাঙ্গা টবের ছোট্ট অংশ উপর
করে দিতে হবে। এর উপর খোয়া বা পাথর কুচি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। তার উপর বালি (বিল্ডং
তৈরির বালি) দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এর উপর মাটি দিয়ে টব ভরতে হবে।
মাটি ভর্তি টবে চারা গাছ অথবা কন্দ রোপন করতে
হবে। কন্দ লাগালে পর পানি দিয়ে কন্দ অংকুরিত হওয়া পূর্ব প্রর্যন্ত টবের মাটিতে বেশি পানি দেয়া যাবে না, কারণ মাটি ভিজে থাকলে অংকুর পচে নষ্ট হতে পারে।
আর সরাসরি চারা রোপন করলে, টবে অর্ধেক মাটি
ভরানোর পর চারা বসিয়ে দিতে হবে। এরপর বাকী মাটি দিয়ে তব ভরিয়ে দিতে হবে। মাটি
দেয়ার সময় আঙুল দিয়ে মাটি চেপে চেপে বসিয়ে দিতে হবে যাতে ভিতরে কোনো ফাঁকা না
থাকে। ফাঁকা থাকলে ভিতরে বাতাস ঢুকে ফাঙ্গাস এট্যাক করব্র এবং শিকড় পঁচে গাছ মারা যাবে।
রোপনের পর পানি দিয়ে কয়েক দিন ছায়ায় রেখে দিতে হবে। এরপর রোদে রাখতে হবে। গাছের
মাটির অবস্থা বুঝে বুঝে নিয়মিত পানি দিতে হবে।
রাজনীগন্ধা গাছের পরিচর্যা। [Part- 2]





0 comments:
Post a Comment